অস্ত্র মামলায় অভিযুক্ত হয়ে দুই মাসের বেশি সময় কারাভোগের পরও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক) চাকরিতে বহাল রয়েছেন মো. আলমগীর খান। মামলার তদন্ত শেষে দেওয়া পুলিশের অভিযোগপত্রে তার বিরুদ্ধে ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ১৯(এ) ধারায় অপরাধের অভিযোগ আনা হয়। আদালতে আত্মসমর্পণের পর কারাগারে গেলেও চাকরিতে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং চাকরির ধারাবাহিকতায় ১১তম গ্রেড থেকে ৯ম গ্রেডে পদোন্নতি পেয়ে বর্তমানে চউকের সহকারী সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। এখন চউকের সচিব পদেও যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১১ সালে নগরের স্টেশন রোড এলাকায় র্যাবের অভিযানে চট্ট মেট্রো-গ-১২-২২৬১ নম্বর একটি গাড়ি থেকে বিদেশি পিস্তল ও ৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। গাড়িটির মালিক ছিলেন তৎকালীন চউকের এস্টেট অফিসার আলমগীর খান। এ ঘটনায় র্যাবের তৎকালীন ডিএডি মো. আব্দুল গাফফার বাদী হয়ে কোতোয়ালী থানায় মামলা করেন। শুরুতে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা হলেও তদন্ত শেষে পুলিশ আলমগীর খানসহ অজ্ঞাতনামা আরও দুজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, গাড়িটির মালিক আলমগীর খানসহ অজ্ঞাতনামা দুজনের বিরুদ্ধে ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ১৯(এ) ধারার অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেছে। অজ্ঞাতনামা দুজনের ঠিকানা শনাক্ত করা সম্ভব না হওয়ায় আলমগীর খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের সুপারিশ করা হয়। অভিযোগপত্রের পর আদালতে হাজির না হওয়ায় তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে। পরে ২০১২ সালের মাঝামাঝি সময়ে আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। দুই মাসের বেশি সময় কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হন তিনি।
কারাভোগের পরও চউকের চাকরিতে বহাল থাকেন আলমগীর খান। তার বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্ত, বিভাগীয় তদন্ত বা অন্য কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। চাকরিতে বহাল থেকে নিয়মিত বেতন-ভাতা পাওয়ার পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে ১১তম গ্রেড থেকে ৯ম গ্রেডে পদোন্নতিও পান তিনি। বর্তমানে চউকের সহকারী সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আলমগীর খান।
আরও অভিযোগ রয়েছে, পদোন্নতির পর এবার চউকের সচিব পদে যাওয়ার জন্য তৎপর রয়েছেন আলমগীর খান। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজম নাছির উদ্দিন ও হেলাল আকবর চৌধুরী বাবরসহ তৎকালীন প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার মাধ্যমে চউকে একটি রাজনৈতিক প্রভাববলয় গড়ে তুলেছিলেন তিনি। আলমগীর খান আজম নাছির উদ্দিনের আত্মীয় হওয়ায় তৎকালীন এ সম্পর্কের কারণে চাকরি ও পদোন্নতিতে তিনি সুবিধা পেয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৩৯(১) ধারায় ফৌজদারি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে হাজতে থাকা সরকারি কর্মচারীর ক্ষেত্রে সাময়িক বরখাস্তসহ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। আলমগীর খান গ্রেপ্তার হয়ে দুই মাসের বেশি কারাভোগ করলেও তার ক্ষেত্রে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল এবং বিচারাধীন মামলার মধ্যেই পদোন্নতি কীভাবে দেওয়া হলো, সে বিষয় এড়িয়ে যাচ্ছে বার বার।
অভিযোগের বিষয়ে আলমগীর খানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল ও বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।
Insider News